• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু তানোরে গরু মোটাতাজা করণে নিষিদ্ধ ওষুধের রমরমা বাণিজ্য  রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার নতুন তথ্য দিল তদন্ত কমিটি শহিদ কামারুজ্জামানের সমাধীতে বঙ্গবন্ধু কলেজ রাজশাহীর গভর্নিং বডির সদস্যদের শ্রদ্ধা বাগমারায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু নগরীতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রতারণার দায়ে যুবক গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি হলেও অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে: কাদের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেল স্যুটকেসসহ এমপি আনারের ‘দুই কিলার’ রাজশাহীতে ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট-স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক প্রকল্পের কর্মশালার উদ্বোধন নগরীতে পুলিশের পৃথক দুটি মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

অনলাইন বা কাউন্টারে নয় ট্রেনের টিকেট পাওয়া যায় হোয়াটসঅ্যাপে

আদমদীঘি  প্রতিনিধি
সর্বশেষ: বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৪

ট্রেনের টিকেট এখন অনলাইন বা কাউন্টারে পাওয়া যায় না। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা দিলেই হোয়াটসঅ্যাপে টিকিট পাঠিয়ে দেয় কালোবাজারিরা। আবার তাদের কাছেই আবার অগ্রিম ট্রেনের টিকেট অর্ডারও দেওয়া যায়।
ঈদে নিরাপদ ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে বেশির ভাগ যাত্রী ট্রেন যাত্রাকে প্রছন্দ করে। তবে গুরুত্বপূর্ন এই সব উৎসবে মেতে উঠে কালোবাজারিরা। ঈদ যাত্রায় ট্রেনের বিভিন্ন রুটের টিকিট অনলাইন বা কাউন্টারে পাওয়া না গেলেও সেই টিকিট পাওয়া যায় কালোবাজারিদের কাছে। তবে সেই ক্ষেত্রে ৩৬০ টাকা মূল্যের একটি টিকিট পেতে গুনতে হয ৮ শত থেকে ১ হাজার টাকা।
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশন স্টেশনকে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বলা হয়। প্রতিদিন অর্ধ-শতাধিক ট্রেনে হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে এই স্টেশন দিয়ে। তবে সারা বছরই ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ এই জংশন স্টেশনে। আর যে কোনো উৎসে ট্রেনের টিকিটের দাম বাড়ে ৩ থেকে ৪ গুন।
নাইম ইসলাম নামের সান্তাহার পৌর শহরের বাসিন্দা  বলেন, আমার চাচাত ভাই ঢাকা থেকে সান্তাহারে আসবে এপ্রিলের ৮ তারিখে। সে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে ও অনলাইন থেকে কোনো টিকেট কাটতে পারে নাই। বিষয়টি আমাকে ফোনে জানালে আমি কালোবাজারির কাছে থেকে  বাধ্য হয়ে টিকিট ক্রয় করি। সান্তাহারে সেই টিকেট কারোবাজারি আমাকে শোভন চেয়ারের একটি টিকিট আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠায়। টিকিটের গায়ে ৩৬০ টাকা মূল্য থাকলেও আমার কাছে থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ১ হাজার টাকা নিয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে টিকেট কাউন্টারের আশেপাশের কম্পিউটারের দোকান, মোবাইল ফোনের দোকান, পানের দোকান থেকে কালোবাজারে বিক্রয় হয় ট্রেনের টিকিট। তবে এবার দোকানে টিকিট বিক্রয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে কালোবাজারিরা।
ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে কালোবাজারি বন্ধে গত বছর ১ মার্চ থেকে ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ এমন স্লোগান সামনে রেখে অনলাইনে ও অফলাইনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট কাটার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। পাশাপাশি এবার ঈদ উপলক্ষে এবারই প্রথম মোবাইলে ওটিপি (ওয়ানটাইম পাসওয়ার্ড) সিস্টেম চালু করা হয়েছে। এবার ঈদ যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরুর আগে রেলওয়ের কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন ওটিপি পাঠানোর এ পদ্ধতি নতুন চালু হওয়ায় টিকিট নিয়ে কারসাজি অনেকটা কমবে। কিন্তু বাস্তবতা কমেনি।
গত মঙ্গলবার রাতে সান্তাহার স্টেশনের রেলওয়ে কাউন্টারের বাহিরে মাদুরে উপর শুয়ে থাকা আব্দুল আজিজ নামের এক দিন মজুরের সাথে কথা হয় তিনি জানান গত দুই থেকে তিন দিন আগে একজন লোক তার কাছে এসেছিল। তার মোবাইল নাম্বার ও এনআইডির ছবি উঠিয়ে নিয়ে তাকে ৫০ টাকা দিয়ে যায়। যাওয়ার আগে বলে যায় তার মোবাইল নাম্বারটি আবার প্রয়োজন হবে। তখন আরও ৫০ টাকা দেওয়া হবে। সেই দিন মজুরের মোবাইলের মেসেজ অপশানে গিয়ে দেখা যায় রেলওয়ের টিকেট কাটার জন্য তার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে রেজিস্টশন করা হয়েছে।
মোবাইল দিয়ে কি ভাবে টিকেট টাকতে হয় তার কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি। ফাহাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি ঈদে পরে ঢাকা যাবো। ঈদে বাড়ি আসার জন্য কালোবাজারির কাছে থেকে এসি সিগ্ধার দুটি টিকিট নিয়েছি ঢাকা থেকে সান্তাহার পর্যন্ত। এতে আমার খরচ পড়েছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টাকা। আবার ঈদ শেষে আমি ঢাকায় ফেরার জন্য ওই টিকিট কালোবাজারির কাছেই অগ্রিম দুটি টিকেট অর্ডার দিয়েছি।
নাম পরিচয় গোপন করার শর্তে এক টিকেট  কালোবাজারি বলেন, করোনাকালীন সময়ে যখন ট্রেন বাদে সকল যানবাহন বন্ধ ছিল তখন থেকেই আমি এই টিকিট বিক্রির সাথে জড়িত। আগে আমরা ট্রেনের সব টিকিট কেটে কাউন্টারের সামনেই কালোবাজারে বিক্রি করতে পারতাম। তবে এখন প্রকাশ্যে টিকেট বিক্রয় করতে পারি না পুলিশের ভয়ে। তবে আগে টিকিট নিয়ে আমরা যাত্রীদের কাছে যেতে হয় না। যাত্রীর হোয়াটসঅ্যাপে নাম্বারে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়াও আমার  ঈদের জন্য অগ্রিম টিকিটও বুক নিয়েছি।
ওই কালোবাজারি আরও বলেন তারা অনলাইন থেকে ইচ্ছে মতো পরিচয়পত্র দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করে। ইচ্ছে মতো টিকিট বিক্রয় করতে কোন সমস্যা হয় না।
সান্তাহার সচেতন মহলের বাসিন্দা নেহাল আহম্মেদ বলেন,  টিকিট কালোবাজারীর চক্রটির তথ্য রেল পুলিশের কাছে থাকলেও ২/৪ জন পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। তবে টিকেট কালোবাজারির মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে আড়ালে। তিনি অভিযোগ করে বলছেন যদি সাধারণ যাত্রীরা কালোবাজারিদের কাছে থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারে। তাদের চিনতে পারে তাহলে পুলিশ কেন তাদের আইনের আওতায় আনছে না। নাকি পুলিশের যোগসাজগেই চলছে টিকেট কালোবাজারিরা।
এ বিষয়ে সান্তাহার নিরাপত্তা বাহিনীর পরিদর্শক নূর এ নবী বলেন, সান্তাহারে আমরাই প্রথম টিকিট কালোবাজারিকে গ্রেপ্তার করি। ঈদ আসলে কালোবাজারি সক্রিয় হয়ে উঠে। আমাদের নিরাপত্তার বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা মাঠে কাজ করছে। যে কোনো সময়ে আমরা কালোবাজারিদের গ্রেপ্তার করতে পারবো বলে আশা করছি।
এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি মোক্তার হোসেন বলেন, টিকিট কালোবাজারি হক বা যে কোনো অপরাধ কেহ করুক আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। টিকিট কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি রয়েছে।  যে কোন সময়ে গ্রেপ্তার করা হবে।


আরো খবর