• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ০৯:২০ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisangbad.com

উপকূলীয় বাঁধ সংস্কারে নজর দিন

রিপোর্টার নাম:
সর্বশেষ: মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪

সম্পাদকীয়

গত বৎসর এই মে মাসেই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘মোকা’ যে গতিপ্রকৃতি ধারণ করিয়াছিল, রবিবার দিবাগত রাত্রিতে আঘাত হানা ‘রিমাল’ উহার বিপরীত স্বভাব প্রদর্শন করিয়াছে। মোকা যতখানি গর্জন করিয়াছিল, শেষ পর্যন্ত ততখানি বর্ষণ করিতে সক্ষম হয় নাই। অপরদিকে রিমাল লইয়া প্রথমদিকে ‘সীমিত’ ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা থাকিলেও শেষ পর্যন্ত উহা উপকূলীয় জীবন ও জীবিকার জন্য গুরুতর আঘাত হইয়াই আসিয়াছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ হইতে সোমবার অপরাহ্ণেই অবহিত করা হইয়াছে, উপকূলীয় অঞ্চলের ছয় জিলায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি ঘটিয়াছে। প্রাণহানির এইরূপ ‘ডাবল ডিজিট’ বিগত কয়েক বৎসরে দেখা যায় নাই। আমরা আশঙ্কা করি, ফসল ও সম্পদহানিও সাম্প্রতিক বৎসরগুলির তুলনায় অধিক ঘটিবে। আর উপকূলীয় বাঁধগুলি ভাঙিয়া যাইবার কিংবা পূর্বেকার ভাঙা ও নাজুক অংশ দিয়া জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসের পানি প্রবেশের খবর রবিবার হইতেই সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেখা যাইতেছিল।
ইহা সত্য, ঘূর্ণিঝড় রিমালে সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র পাইতে আমাদের আরও অপেক্ষা করিতে হইবে। তজ্জন্য নিকটবর্তী ক্ষতিগ্রস্তদের পার্শ্বে দাঁড়াইতে কিংবা প্রস্তুতি লইতে বিলম্ব করা চলিবে না। আমরা দেখিতে চাহিব, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সকল প্রকার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করিয়া ক্ষতিগ্রস্তদের পার্শ্বে দাঁড়ানো হইয়াছে। ইহাও প্রতিষ্ঠিত, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা এক বৈশ্বিক উদাহরণ। নব্বই দশকে প্রণীত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশটি কার্যকর হইবার কারণেই ঘূর্ণিঝড়ে জীবন ও সম্পদহানি ক্রমেই কমিয়া আসিতেছে। আমাদের পূর্বাভাস ব্যবস্থাও এখন আন্তর্জাতিক মানের। আমরা এখন তিন-চার দিন পূর্বেই ঘূর্ণিঝড়ের ধরন ও সম্ভাব্য গতিপথ বলিয়া দিতে পারি। এখন স্বেচ্ছাসেবকগণ যেভাবে পাড়া-মহল্লায় গিয়া দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে লইয়া যায়, উহার উদাহরণ বিশ্বে স্বল্পই। কিন্তু তজ্জন্য আত্মতুষ্টিতে ভুগিবার কোনো অবকাশ নাই।

স্বীকার্য, জীবন ও সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখিতেছে। জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবন মোকাবিলায় ‘মুজিব কেল্লা’ হইয়া উঠিয়াছে কার্যকর অবকাঠামো। কিন্তু বাঁধ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী ও সংহত না থাকিলে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার সকল পদক্ষেপ ও কৌশল বাতায়ন বন্ধ করিয়া দ্বার উন্মুক্ত রাখিবার নামান্তর হইবে। আমরা গভীর উদ্বেগের সহিত দেখিলাম, ঘূর্ণিঝড় রিমালের ছোবল হইতে উপকূলব্যাপী বিস্তৃত বাঁধ নেটওয়ার্ক রক্ষা পায় নাই। এই আক্ষেপ অসংগত হইতে পারে না, বাঁধগুলি সবল থাকিলে রিমালের ক্ষয়ক্ষতি সীমিতই থাকিত।

সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় ও তজ্জনিত জলোচ্ছ্বাসের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় আমরা মনে করি, উপকূলীয় বাঁধগুলির উচ্চতা অন্তত ১০ ফুট বৃদ্ধি করা উচিত। বিশেষজ্ঞগণও বিভিন্ন সময় সমকালের সহিত সাক্ষাৎকারে এইরূপ পরামর্শ প্রদান করিয়াছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি যখন দৃশ্যমান; লবণাক্ততা যখন ক্রমবর্ধমান; তখন ইহার বিকল্প কী?


আরো খবর