• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ১১:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisangbad.com

ঋণের কারণে হাতাশাগ্রস্ত হয়ে স্ত্রী-দুই সন্তানকে হত্যা

রাজশাহী সংবাদ ডেস্ক
সর্বশেষ: সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে হত্যার বর্ণনা দিয়ে এসব কথা জানান হত্যাকারী আশিকুল হক মোল্লা।

সোমবার (১ এপ্রিল) এ তথ্য নিশ্চিত করেন নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তানভীরুল ইসলাম।

পুলিশকে দেওয়া জবানবন্দিতে আশিকুল হক মোল্লা জানান, ঘটনার দিন তিনি প্রথমে স্ত্রীকে একটি ঘরে নিয়ে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে অন্য ঘরে নিয়ে একইভাবে দুই শিশুকে হত্যা করেন। এরপর গলা কেটে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

পুলিশ জানান, হত্যার ঘটনার পর প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৩০ মার্চ) সকালে আশিকুল হক মোল্লাকে ছাড়পত্র দেয় রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নীলফামারী সদর থানায় এনে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সকালে জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী বন্দর বাজার গ্রামের আশিকুল হক মোল্লার বাড়ির শোবার ঘর থেকে স্ত্রী তহুরা বেগম (৩২), মেয়ে আয়েশা আক্তার (১০) ও জারিন তান্নিমের (৬) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে বাড়ির উঠান থেকে গলাকাটা অবস্থায় আশিকুল হক মোল্লাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় প্রতিবেশীরা।

এ ঘটনায় তহুরা বেগমের ছোট ভাই মো. আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে আশিকুল হক মোল্লার নামে হত্যার অভিযোগ এনে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে হত্যার রহস্য উদঘাটনে সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামে রংপুর সিআইডি ক্রাইমসিনের সদস্যরা।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে আশিকুল হক মোল্লা জানায়, ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ফার্নিচারের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় লোকসান হওয়ায় ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এ অবস্থায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন আশিকুল।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তানভীরুল ইসলাম জানান, রোববার বিকেলে নীলফামারী জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন কবিরের এজলাসে হাজির করা হলে সেখানে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আশিকুল হক মোল্লা। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


আরো খবর