• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisangbad.com

তাসকিন-সাকিবের আঘাতের পর ব্যাকফুটে জিম্বাবুয়ে

স্পোর্টস ডেস্ক
সর্বশেষ: শুক্রবার, ১০ মে, ২০২৪

ব্যাটিংয়ে শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের। তবে প্রথম উইকেট হারানোর পর ধস নামে স্বাগতিকদের ব্যাটিং লাইনআপে।

তাতে কোনোমতে পাওয়া মাঝারি পুঁজি নিয়ে বোলিং করতে হচ্ছে তাদের। বোলিংয়ের শুরুতেই অবশ্য তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে শান্তবাহিনী।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৯.৩ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৫৭ রান সংগ্রহ করেছে জিম্বাবুয়ে।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা জিম্বাবুয়ে শুরুতেই উইকেট হারায়। ইনিংসের চতুর্থ বলে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ। ডানহাতি পেসারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে মিড অনে ক্যাচ দেন জিম্বাবুয়ের ওপেনার ব্রায়ান বেনেট (০)। দ্বিতীয় ওভারে তানজিম সাকিব খরচ করেন ১৪ রান। পরের ওভারে সাকিব আল হাসান আক্রমণে এসে দেন ৮ রান। চতুর্থ ওভারে তাসকিন এসে ফের আঘাত হানেন। এবার তার বলে সরাসরি বোল্ড হন সিকান্দার রাজা। ১০ বলে ১৭ রান করেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক।

তাসকিনের জোড়া আঘাতের পর আক্রমণে এসে উইকেট পান সাকিবও। ১৩ বলে ১৪ রান করা মারুমানিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন বাঁহাতি স্পিনার। আম্পায়ার আউট দেওয়ার পর মারুমানি রিভিও নিয়েছিলেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত আসে আউট-ই। পরের বলেই ক্লাইভ মাদান্দের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন সাকিব। কিন্তু আম্পায়ার এবার সাড়া দেননি। সাকিবের ইশারায় রিভিও নেন শান্ত। কিন্তু রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্ট্যাম্পে লাগতোই না। পাওয়ার প্লে-তে জিম্বাবুয়ে ৩ উইকেটে ৩৭ রান তুলতে পারে।

আজ শুক্রবার মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থটিতে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে। শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৫ ওভারে ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ।

এদিন বাংলাদেশ খেলতে নামে একাদশ তিন বদল নিয়ে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জায়গা নেন সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার ও মোস্তাফিজুর রহমান। ইনিংস উদ্বোধনে তানজিদ হাসান তামিমের নতুন সঙ্গী হন সৌম্য।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করেন তারা। একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম, প্রথম দিকে অনেকক্ষণ আরেক প্রান্তে দাঁড়িযে সেটি দেখেন সৌম্য। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ৫৭ রান করে বাংলাদেশ। তানজিদের রান তখন ২৭ বলে ৪০, সৌম্যের ৯ বলে ৬।

পাওয়ার প্লের ঠিক পরের ওভারে ব্রায়ান বেনেটকে রিভার্স সুইপে ছক্কা হাঁকিয়ে প্রথম বাউন্ডারি পান সৌম্য। ৩৪ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ, এই সিরিজেই অভিষেক হওয়া তানজিদ এ নিয়ে চার ম্যাচে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি পান। ১২তম ওভারের প্রথম বলে গিয়ে তিনি আউট হলেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙে।

আগের ওভারে লং অফে দাঁড়িয়ে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন ব্রায়ান বেনেট। মুখোমুখি হওয়া পরের বলে পয়েন্টে জন ক্যাম্পবেলের হাতে ক্যাচ দেন লুক জংওয়ের বলে। ৩৭ বলের ইনিংসে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫২ রান করেন তানজিদ। ওই ওভারেই আউট হন তার উদ্বোধনী সঙ্গী সৌম্য সরকার। ৩৪ বল খেলে ৪১ রান করা এই বোলার ইয়র্কারে এলবিডব্লিউ হন।

দুই ওপেনারকে হারানোর পরের গল্পটা বাংলাদেশের জন্য কেবলই হতাশার। তিনে খেলতে নামা তাওহীদ হৃদয় আউট হন সিকান্দার রাজার বলে। ৮ বলে ১২ রান করে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন বেনেটের হাতে। পরের ওভারে বল হাতে এসে বাংলাদেশের আরও দুই উইকেট তুলে নেন বেনেট।

তার করা প্রথম বল ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়ে গিয়ে আঘাত করে সাকিব আল হাসানের স্টাম্পে। ৩ বলে ১ রান করে ফেরেন তিনি। শেষ বলে শান্তকেও বোল্ড করেন বেনেট, বাংলাদেশ অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে ২ রান।

পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে আর টেনে তুলতে পারেননি জাকের আলি অনিক, রিশাদ হোসেনরা। ১৭তম ওভারে এসে ৭ বলে ৬ রান করা জাকেরকে আউট করেন রিচার্ড এনগারাভা। ওই ওভারেই রান আউট হন তাসকিনও।

পরের ওভারে এসে রিশাদ হোসেনকে ইয়র্কারে বোল্ড করেন লুক জংওয়ে। ৪ বলে তিনি করেন ২ রান। শেষ অবধি এক বল বাকি থাকতে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের হয়ে ৩ ওভারে ২০ রান খরচায় ৩টি উইকেট নেন লুক জংওয়ে। দুটি করে উইকেট পান ব্রায়ান বেনেট ও রিচার্ড এনগারাভা।  একটি করে পান সিকান্দার রাজা ও ব্লেসিং মুজারাবানি।


আরো খবর