• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ২৩ জুন ২০২৪, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisangbad.com

নওগাঁয় কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তি থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদের অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি
সর্বশেষ: রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৪

 নওগাঁয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক অনুসারীর বিরুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বী এক ব্যবসায়ীর জমি জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড এলাকায় প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ওই জমি থেকে ভুক্তভোগী জমির মালিক সত্যজিৎ বসাককে উচ্ছেদ করে ইতিমধ্যেই সেখানে টিনের তৈরী অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন ভুমিদস্যু মোশারফ হোসেন শান্ত।
দখল পাকাপোক্ত করতে আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যানারে সেখানে চালানো হচ্ছে নানান কার্যক্রম। এতে নিজের সম্পত্তি বেহাত হওয়ার শঙ্কায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী ওই ব্যবসায়ী।
সরেজমিন বালুডাঙ্গা বাসস্টান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সত্যজিৎ বসাকের যেই জমি কয়েক মাস আগেও তাঁর দখলে ছিলো এবং সেখানে চা স্টল ছিলো, তা এখন আর নেই। সত্যজিৎ বসাকের জমির ফেলে রাখা অংশটুকুও টিন দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। সড়ক সংলগ্ন অংশের যেখানে চা স্টল ছিলো, সেই অংশে এখন টিন দিয়ে ঘেরাও করে অফিস ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ পরিবার বালুডাঙ্গা বাস টার্মিনাল নওগাঁ আয়োজনে দোয়া ও ইফতার বিতরনের একটি বড় মাপের ব্যানার অফিসের ভেতরে টানানো। একটি ক্যারাম বোর্ড, এলইডি টিভিসহ বেশ কিছু প্লাস্টিকের চেয়ারে পরিপূর্ণ এই অফিস।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বলেন, মোশারফ হোসেন শান্ত বর্তমান সংসদ সদস্যের অনুসারীসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠ। সেই দাপট দেখিয়ে সে একের পর এক অপকর্ম করে বেড়ায়। এলাকায় চাঁদাবাজি, ভূমি দস্যুতাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। কিন্তু কেউই এসবের প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে নির্যাতন করেন শান্ত। সত্যজিৎ বসাকের জমি দখলে নেওয়ার পর থেকে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী সত্যজিৎ বসাক বলেন, এক রাতের মধ্যেই আমার জমিতে থাকা চা স্টল ভেঙে সেখানে টিন দিয়ে ঘেরাও করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছেন শান্ত। প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতা চেয়েও পাইনি।
আমার জমিতে আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড টানিয়ে প্রোগ্রাম করে বেড়াচ্ছে শান্ত। এখন আমি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের দাঁড়ে দাঁড়ে ঘুরছি। কেউই সমাধান করতে চাইছে না। শান্ত আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ বাধ্য হয়ে গত ফেব্রুয়ারী মাসে আদালতে মামলা করেছি। আমি আমার জমি ফেরত চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোশারফ হোসেন শান্ত বলেন, ওই জমিটি সত্যজিৎ বসাকের মালিকানাধীন নয়। সম্পূর্ণ খাস জমি। তাই নির্বাচনকালীন সময়ে সেখানে অফিস ঘর নির্মাণ করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি জানালে স্থাপনা সড়িয়ে নেওয়া হবে। অভিযোগগুলো মিথ্যে ও ভিত্তিহীন।
নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে থানা পুলিশের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। জমিটি আদৌ সরকারি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন সেটা ইউএনও এবং এসিল্যান্ড দেখতে পারেন।


আরো খবর