• ঢাকা, বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ০২:১৮ অপরাহ্ন
নোটিশ
রাজশাহীতে আমরাই প্রথম পূর্ণঙ্গ ই-পেপারে। ভিজিট করুন epaper.rajshahisangbad.com

রাজশাহীতে সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের খাত

রিপোর্টার নাম:
সর্বশেষ: মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন

রাজশাহী বিভাগ তথা রাজশাহী মহানগর কেন্দ্রীক সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের খাত সম্প্রসারন এবং বিস্তৃত করা সময়ের দাবী। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের খাত বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গিকার। সেই আলোকে রাজশাহী অঞ্চলে কর্মসংস্থানের খাত বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ এখন সম্ভাবনার দিক উন্মোচন করছে। কেননা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কৃষি খাতের উৎপাদন উপকরণসহ নানামুখী সেবাখাতের উপস্থিতি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকে আশাবাদী করে তুলেছে। এটা অবধারিত যে, চাহিদামত বিদ্যুৎ সরবরাহ ও প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণ, নানামুখী উৎপাদন উপকরণ সহজ প্রাপ্তি কর্মসংস্থানের খাত বৃদ্ধিতে প্রধান নিয়ামক। তাই বড়, মাঝারী, ছোট উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠা বা স্থাপন এবং সেবাখাত চিহ্নিত করণ ও প্রতিষ্ঠা কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে প্রয়োজন। এই প্রাসঙ্গিকতায় রাজশাহী অঞ্চলে বেকার দক্ষ ও অদক্ষ যুব সমাজকে লক্ষ্যদল ধরে কর্মসংস্থানের সম্প্রসারনে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্ববহ। বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, নিরক্ষর যুব সমাজের আধিক্ষ্য দৃশ্যমান। বিবিএস এর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৩ অনুযায়ী দেশে পুরুষ বেকার ১৫ লক্ষ ৭০ হাজার, আর নারী বেকার ৭ লক্ষ ৮০ হাজার। তবে নিয়মিত পরিসংখ্যান না নিয়েও এটা বলা যায় দেশে বেকারত্ব একটা সামাজিক সমস্যা। আর এই সমাজিক সমস্যা থেকে উত্তোরনের উপায় বের করা এখন আলোচ্য বিষয়। এই আলোকে রাজশাহীর বেকার যুব সমাজের কর্মসংস্থানের খাতকে সস্প্রসারণের জন্য নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে চিহ্নিত ও উদ্ভাবনকে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। কেননা উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত ও প্রাপ্তির জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আশার আলো দেখায়। অন্যদিকে কৃষিজ উৎপাদন উপকরণ আধুনিক কৃষিজ ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে অপার সম্ভাবনার সুযোগ সৃষ্টি করবে সেটা নিশ্চিত। পাশাপাশি সময়ের চাহিদায় কর্মসংস্থানমূলক সেবাখাত সৃষ্টি ও স্থাপনও এখন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। যেহেতু দেশে শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন হয়েছে সেহেতু আঞ্চলিক পর্যায়ে বিদ্যুতের সর্বোত্তম ব্যবহার করে কর্মসংস্থানের দ্রুত সম্প্রসারণ করা অতীব প্রয়োজন। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের কৃষিজ উৎপাদন আঞ্চলিক পর্যায়ে আধুনিক কৃষিজ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। যা সরাসরি কর্মসংস্থানের সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই কর্মসংস্থান একদিকে যেমন যুব সমাজকে আকৃষ্ট করবে অন্যদিকে গোটা দেশের উন্নয়ন অগ্রগতিকে তরান্বিত করবে। এই প্রাসঙ্গিকতায় রাজশাহীর আঞ্চলিক ও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব। যেমন বড়, মাঝারী ও ছোট তথ্য প্রযুক্তি খাতের শিল্প স্থাপন, আধুনিক কৃষিজ শিল্প স্থাপন, শ্রমঘন পোশাক প্রস্তুতকরণ শিল্প স্থাপন এবং সেবামুখী নানা কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। সুতরাং রাজশাহী অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠিকে সামনে রেখে উল্লেখিত উদ্যোগগুলো গ্রহন করলে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। প্রয়োজন শুধু খাত ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এই কর্মসংস্থানে নিয়োজিত শ্রমশক্তিই রাজশাহী অঞ্চলের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে গতিশীল করবে। সংযুক্ত হবে প্রচুর প্রাণশক্তি সম্পন্ন যুব জনগোষ্ঠীর অপার শ্রমশক্তি, যা বেকার সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। অতএব রাজশাহী অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠীর শ্রমশক্তিকে কাজে লাগাতে নিম্নোক্ত খাতের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। যেমন (১) তথ্য প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থান: বড়, মাঝারি, ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মধ্যদিয়ে এই খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। (২) কৃষিজ শিল্প প্রতিষ্ঠান: কৃষি পণ্যকে উৎপাদন উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করে নানামুখী আধুনিক শিল্প স্থাপন করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে একদিকে কৃষিজ পণ্য অন্যদিকে ফল প্রক্রিয়াজতকরণে আধুনিক শিল্প স্থাপন করতে হবে। (৩) রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন: উল্লিখিত তথ্য প্রযুক্তি এবং কৃষিজ শিল্পের দিকে লক্ষ্য রেখে রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন জরুরী। উল্লেখ্য রাজশাহী অঞ্চলে রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপন এ অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠীর শ্রমশক্তিকে কাজে লাগাতে অতীব উপযোগী। (৪) সেবাখাতের নানামুখী প্রতিষ্ঠান স্থাপন: রাজশাহী অঞ্চলের কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সেবাখাতের নানা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে বেকার যুব জনগোষ্ঠীর শ্রমশক্তিকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে এটা নিশ্চিত। তাই সেবাখাতের প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথক প্রতিষ্ঠান স্থাপন কর্মসংস্থানে যথাযথ ফলাফল বয়ে আনবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। সহজতর করতে হবে নিয়ম কানুন। (৫) অপ্রচলিত ও উদ্ভাবনমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন: এক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকে সহায়তা করে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করতে হবে। অপ্রচলিত অনেক খাত অবহেলিত যা একটু সহযোগিতা দিলে কর্মসংস্থানের খাতে সম্প্রসারিত হবে। তাই এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দৃষ্টি দিতে হবে। (৬) প্রাতিষ্ঠানিক, দলগত, এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের উদ্যোগকে সর্বোচ্চ সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যার ফলে কর্মসংস্থান সম্প্রসারনের বিষয়টি গতিশীল হবে। সর্বোপরি রাজশাহী অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও সাংস্কৃতিক আবহকে গুরুত্ব দিয়ে বেকার শ্রমশক্তিকে লক্ষ্যদল হিসেবে সামনে নিয়ে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের ব্যবস্থা এখন অতীব প্রয়োজনীয় বলে প্রতীয়মান হয়। অতএব উল্লিখিত প্রাসঙ্গিকতায় রাজশাহী অঞ্চলের বর্তমান আর্থ-সামাজিক চাহিদায় শুধু শিক্ষিত বা দক্ষ বেকার জনগোষ্ঠি নয়, অশিক্ষিত, অদক্ষ বেকার জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করে তাদের শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়ন (অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থান) এবং অগ্রগতি তরান্বিত করার যথাযথ পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নই কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যাবে।
লেখক: প্রফেসর, সমাজকর্ম বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়


আরো খবর