• ঢাকা, বাংলাদেশ রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত গোলাম আরিফ টিপু

রিপোর্টার নাম:
সর্বশেষ: শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪

রাজশাহী সংবাদ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর প্রবীণ আইনজীবী ও ভাষাসৈনিক অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত চিফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এদিন সকাল ৯টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাঁটি বাজার ঈদগাহ ময়দানে তার চতুর্থ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুর মরদেহ নেওয়া হয় রাজশাহীতে। রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বেলা পৌনে ১২টায় তার পঞ্চম জানাজার নামাজ পড়ানো হয়। পরে মরদেহ আনা হয় ঢাকায়।

গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গোলাম আরিফ টিপুর দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। এর আগে প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয় নিউ বেইলি রোডে মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টের নিজ বাসায়। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

শুক্রবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রবীণ এ আইনজীবী। গোলাম আরিফ টিপুর মেয়ে জানান, গত মঙ্গলবার তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। শ্বাসকষ্ট জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

গোলাম আরিফ টিপুর জন্ম ১৯৩১ সালের ২৮ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কমলাকান্তপুর গ্রামে। ১৯৪৮ সালে মাধ্যমিক পাস করার পর রাজশাহী কলেজ থেকে ১৯৫০ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। একই কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক শেষ করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৫৪ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি একাধারে ছিলেন আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভাষা আন্দোলন কর্মী। ১৯৫২ সালে রাজশাহীতে বাংলা ভাষা আন্দোলন মূলত তার নেতৃত্বে হয়। তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০১৯ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে। ১৯৫৪ সালে ছাত্র ইউনিয়নের দ্বিতীয় সম্মলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন তিনি। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন। রাজশাহীর ভাষা আন্দোলনে তার ছিল অনবদ্য ভূমিকা। তিনি ছিলেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক।


আরো খবর